চিঁড়া: গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকর খাবার
চিঁড়া আমাদের গ্রাম-বাংলার একটি সুপরিচিত খাবার। এটি কেবল সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্যগুণেও ভরপুর। শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং পেটের নানা সমস্যা উপশমে চিঁড়ার ভূমিকা অতুলনীয়। চিঁড়াকে একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে আউশ ধানের লাল চিঁড়াতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান।
চিঁড়ার উপকারিতা:
- সহজে হজমযোগ্য একটি খাবার।
- এতে ফাইবারের পরিমাণ কম থাকায় ডায়রিয়া, কোলাইটিস এবং অন্ত্রের প্রদাহজনিত সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- কিডনি রোগীদের জন্য এটি একটি উপযুক্ত খাবার।
- ভিজানো অথবা শুকনো – উভয় অবস্থাতেই চিঁড়া পেট ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
- এটি কম কোলেস্টেরলযুক্ত একটি খাবার।
- চিঁড়ার পাশাপাশি চিঁড়া ভেজানো পানিও শরীরের জন্য বেশ উপকারী।
- চিঁড়া কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চমৎকার উৎস।
- অনেক সময় চিঁড়া তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
- নিয়মিত চিঁড়া খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে।
দই-চিঁড়া: এক দারুণ স্বাস্থ্যকর খাবার
দই-চিঁড়া অথবা দুধ-কলা দিয়ে চিঁড়া খাওয়ার প্রচলন বহু পুরনো। পেটের সমস্যা হলে অনেক সময় বাড়ির বড়রা চিঁড়া খাওয়ার পরামর্শ দেন। এমনকি অনেক বাড়িতে সকালের নাস্তায়ও এই খাবারটি বেশ জনপ্রিয়।
- সকালে খেতে অনীহা বা পেট ভার লাগলে দই-চিঁড়া হতে পারে একটি চমৎকার সমাধান। এটি পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
- প্রক্রিয়াজাত খাবার দেহের জন্য ক্ষতিকর হলেও চিঁড়া যেহেতু প্রক্রিয়াজাত নয়, তাই এর পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। পাশাপাশি, এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
- যারা দ্রুত ওজন কমাতে চান, তারা ভাত বা রুটির পরিবর্তে দই-চিঁড়াকে খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন। কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে এবং চিঁড়াতে সেই কার্বোহাইড্রেট বিদ্যমান।
- উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যায় অনেক খাবার খাওয়া নিষেধ থাকে। তবে চিকিৎসকরা প্রায়শই রোগীদের পথ্য হিসেবে চিঁড়া খাওয়ার পরামর্শ দেন। তাই চিঁড়া খেলে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।